একি ঘটল শ্বশুর বাড়ীতে! ন্যাড়া ভুত - বিনোদনমূলক হাসির গল্প


শ্বশুরবাড়ি এই একসপ্তাহ হল এলাম।এরই মাঝে আমার সাথে খুব অদ্ভুত জিনিস ঘটছে।একেই প্রত্যন্ত গ্রাম আশেপাশের পরিবেশ গা ছম ছম অবস্থা আরকি।এরই মাঝে আসার পর থেকেই ঘরের এক এক পুরুষ সদস্য উধাও হচ্ছেন।প্রথম দিন উধাও হল আমার একমাত্র দেবর।তারপরের দিন দাদা শ্বশুর।আজ থেকে শ্বশুর মশাইকেও দেখছিনা।আসিফ রুমে আসার সাথে সাথেই ওকে ধীর গলায় জিজ্ঞাসা করলাম,আচ্ছা বাসার পুরুষরা আমার সামনে আসেনা কেন?

আসিফ কিছুটা বিরক্ত হয়েই বললো তুমি মহিলা মানুষ পুরুষের খোঁজ নিয়া কি করবা?মা,দাদি তো দেখা দিচ্ছেন তাইনা?
মনের ভিতর খুব সংকোচ হচ্ছে।একেই তো রোগের ভয় তার উপর আবার ভুতের ভয়।

সন্ধ্যা বেলায় বাসার কাজের মেয়ে রাবেয়াকে বললাম সব ঘরে হেরিকেনের আলো জ্বলিয়ে দিয়ে আসতে।দাদা শ্বশুরের ঘর থেকে চিৎকার দিয়ে বের হল রাবেয়া।এত জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছে তার জবান তখন থেকেই বন্ধ হয়ে আছে।রাবেয়ার আচরণ দেখে আমার চিন্তা আরো বেড়ে গেল।কিঞ্চিৎ ভয় ও হচ্ছে।শেষে কিনা মা বাবা আমায় খুঁজে এমন ভুতের বাড়ি বিয়ে দিল!পরের দিন থেকে রাবেয়া আর কাজে আসেনি।

নতুন বউ দেখে দিনের বেলায় বের হতেও পারিনা বাহিরে।আবার দেশের অবস্থা ভালো না তাই আরো বের হওয়া হয়না।আসিফকে রাতে বললাম চলনা চাঁদের আলোয় একটু উঠোনে হাঁটতে যাই।অনেক অনুরোধের পর রাজি হল।বিশাল উঠোন তার দক্ষিণ পাশটায় একটা ছোট ঘর।ওখানে আমার দেবর থাকে।একা একা ওখানে পড়ে আর ঘুমোয়।তার কিছুটা দূরেই বিশাল তালগাছ।তালগাছের পাতার আড়ালে চাঁদটা ঢাকা পরেছে কিন্তু তার আলো একদম ই প্রখর।
আসিফ বার বার বলছে চলো ঘরে যাই দেশের অবস্থা ভালো না।আসিফকে ধমক দিয়ে বললাম এখানে তো লোকের জটলা নেই। ঘরেও তুমি আমি এখানেও তাই।কিছুক্ষণ বাদেই দেবর পিন্টুর ঘরের সামনে ছায়া মূর্তি দেখে আমি ভরকে যাই।
কে?..কে ওখানে বলতেই আসিফ ধমক দিয়ে বললো আহ!চেঁচিয়ো না।বাসার সবাই সজাগ হয়ে যাবে। কেউ জানেনা আমরা বাইরে।

ছায়ামূর্তির দিকে আমি তখনও একইভাবে তাকিয়ে আছি।ফ্যাস ফ্যাস করে বলছি আসিফ দেখছোনা কেউ একটা ওখানে বসা।
আসিফ চিন্তাহীন স্বরে বললো,পিন্টুই হবে হয়তো।ডেকনা। মাকে বলে দিবে।
আমি আসিফের কথার কর্নপাত করলাম না।আমাকে এই চিন্তার জটলা খুলতেই হবে।
পিন্টু...এই পিন্টু.. উচ্চস্বরে ডাক দেয়া মাত্র ছায়ামূর্তি ভোঁ দৌড় দিল।আসিফ আমায় টেনে ঘরে নিয়ে এলো।

থরথর করে কাঁপছি।এই প্রথম ভুতের দৌড় দেখলাম।
শাশুড়ি মা দোয়া পরে ফুঁ দিচ্ছেন।বার বার বলছেন দেশের এই অবস্থা তার ভিতরে কেন আমরা বাইরে গেলাম?মনে মনে বলছি দেশের চেয়ে আপনার বাড়ির অবস্থা কম কিসে?
আমি দাদি শাশুরি আবার খুব সচেতন মানুষ। সে নিয়ম করে টেলিভিশন দেখেন এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কি করা উচিৎ তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।আমার হাতে পানির গ্লাস দেখে দাদী শ্বাশুড়ি বললেন,গ্লাস ধুয়ে নিছো সাবান দিয়ে বউমা?

মা চুপ করে থাকায়,আমি আধো আধো স্বরে বললাম জ্বী।কড়া চোখে আসিফের দিকে তাকিয়ে বললেন,বাইরে থেকে এসে হাত ধুয়েছিস?আচ্ছা এখন আর বাইরে গিয়ে হাত ধুতে হবেনা।সেনিটারী দিয়ে হাত মুছে ফেল।আসিফ হেসে বলে উঠলো দাদি ওটা সেনিটারী না হ্যান্ড সেনিটাইজার।
তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন আর হইছে।এখন ঘুমিয়ে পর তোরা।কিন্তু ১মিটার দূরত্ব মনে রাখিস।
আসিফের সাথে সারারাত কথা না বলে শুধু ভাবছি কি ছিল ওখানে? এত ভয় পেলাম তাও এ ঘরের পুরুষরা কেউ এলেন না।

আসিফ শান্ত গলায় বললো ঘুমিয়ে পরো।
ঘুমের ভিতর খুব বাজে স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেল।মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখি রাত ৩টা।এখানে নেটওয়ার্ক ও নেই।কথা বলতে হয় বাইরে গিয়ে।আজ যা ঘটেছে এত রাতে বাইরে একা যাবার সাহস আমার নাই।ভাবছি কাল মাকে কল দিয়ে সব বলবো।ভাবতে ভাবতেই গুমোট গরম সাথে প্রকট গন্ধ।আমি আসিফকে শক্ত করে ধরে চোখ বুজলাম।

কী অদ্ভুত!আসিফও আজ বিকেল থেকে হাওয়া।মাকে জিজ্ঞেস করলাম সে কিছুই যেন জানেনা।দাদিকে জিজ্ঞেস করতেই বললো,মহিলা দেশের অবস্থা কি দেখছো?এহন অত জামাই জামাই কইরো না।আলাদা আলাদা থাকো।তুমি দেহনা তোমার দাদারে আলাদা রুমে পাঠায়া দিছি।এর নাম কি জানো?পারিবারিক দূরত্ব।এই দেহ আমি তোমার থেকে কত দূরে থাকি।আসিফরে বলছি এখন থেকে ১৪দিন দূরে থাকতে।হোম কোয়ানচালা থুক্কা কোয়ানটিন বলে এটারে।দাদির কথায় আহত হয়ে আর বলতে ইচ্ছে করছেনা এটা কোয়েনটিন না।
আসিফকে কল দিচ্ছি বড় অভিমান নিয়েই।নতুন বউ আমার কাছ থেকে ও দূরত্ব নিতে পারেনা।তিনবার কল দেয়ার পর রিসিভ করে বললো লুবনা দাদির হুকুম।পালন করতেই হবে।আমি এখন থেকে পিন্টুর পাশের রুমে থাকবো।

মানে কি?
আসিফ: কাল রাতে বের হওয়া ঠিক হয়নি।তাই দাদি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আচ্ছা আসিফ আমি কি বিদেশ ফেরত?নাকি আমার মাঝে ভাইরাস আছে? দূরে থাকতে হবে কেন?

আসিফ: রাগ করোনা সচেতন থাকা তো ভালো তাইনা?এমনিতেই এর মাঝে উঠিয়ে আনলাম ঘরোয়া ভাবে হলেও ২০জন তো ছিল দাদির হুকুম ১৪দিন এভাবে থাকা লাগবে।বুঝোই তো বৃদ্ধা মানুষ। কথা না মানলে কষ্ট পাবেন।
আসিফ আমি কিছু জানিনা।তুমি আমার সাথে দেখা করবে।

-এভাবে বলোনা।আমি আপাতত দেখা করতে পারবোনা।তুমি ই বেপারটা নিতে পারবেনা।

আসিফের কথা শুনে আমার গা আবার ভার হয়ে আসলো।কী নিতে পারবো না!এই রহস্যের জট খুলতেই হবে।
না আসিফ আজ রাতে দেখা করবা।দিনে করতে হবেনা যাও।
আসিফ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো আচ্ছা।

রাত ১০টায় এখানের সবাই ঘুমিয়ে যায়।যার যার খাবার তার রুমে দিয়ে যায় দাদি।একসাথে খাওয়াও বন্ধ।না হলে হয়তো আসিফের সাথে তখনও দেখা হত।সব আলো নিভে যাওয়া মাত্রই ফোনটা হাতে নিয়ে নামলাম।উঠোনের একপাশে দাড়িয়ে আছে আসিফ অন্ধকারে ওকে না বুঝা গেলেও খুব স্পষ্ট ওটা আসিফ।কাছে গিয়েই দেখলাম বিশাল চাদর গায়ে মাথায় পেঁচানো।

কি বেপার?এই গরমে চাদর কেন?কপালে হাত দিয়ে বললাম কই জ্বর নেই তো।
না এমনিতেই যাতে কেউ না দেখে চোরের মত এলাম।
বেপারটা আমার সন্দেহ লাগাতে ওকে জোর করলাম চাদর টা খুলতে।হয়তো এই চাদরের মাঝেই সব রহস্য ঢাকা পরে আছে।প্রচুর টানাটানির পর চাদর একপাশে পরে গেল।আমি ফোনের টর্সটা জ্বালালাম সাথে সাথেই।যা দেখলাম তা দেখে আমি আর হুশে থাকতে পারিনি এক চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরলাম।

জ্ঞান ফিরা মাত্রই আমার চারপাশে আসিফ,দেবর পিন্টু,শ্বশুর-দাদা শ্বশুরের এমন রূপ দেখে ভরকে গিয়ে আবার অজ্ঞান হলাম ঘন্টাখানেক পর জ্ঞান ফিরলো।আসিফ আমায় শক্ত করে ধরে বললো এর জন্যই চাদর খুলতে বারন করেছিলাম।দাদি সবাইকেই ন্যাড়া করে দিয়েছেন।তাই কেউ তোমার সামনে আসেনি।

ন্যাড়া দাদা শ্বশুর বললেন,কি হল নাতবৌ আমায় কি খুব ভয়ংকর লাগে?সেদিন রাবেয়াও পালালো।পিন্টু হেসে হেসে বলে ভয়ংকরতো লাগেই। সেদিন ভাবির ডাকে আমিও পালিয়েছি।আমি সবার দিকে ঘুরে ঘুরে তাকালাম।দাদি শ্বাশুড়ি এসে সেনাবাহিনীর মত জনসভা ভেঙে দিলেন।রুমে কেবল আমি আর আমার সদ্য অচেনা ন্যাড়া জামাই। এখনো ভয়ের রেশটা কাটেনি।আসিফ আমায় বলছে, মাথায় হাত দিয়ে দেখো।ভয় কেটে যাবে। আমি কাঁপা হাতে ন্যাড়া মাথায় হাত বুলিয়ে ওরে আমার ন্যাড়া ভুতটা বলা মাত্রই দাদি শ্বাশুড়ি রুমে উপস্থিত হয়ে বললেন,নাতবউ কি করলা?কি করলা?..
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করলাম কি হয়েছে দাদি?

মাথায় হাত দেয়ার আগে হাত স্যানিটারী দিয়ে পরিস্কার করে নিছিলা?
দাদির এই প্রশ্নের পর থেকে আমি বার বার বেহুশ হচ্ছি।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post